…সেই রাত থেকেই টিপটিপ করে বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু ভ্যাপসা পচা গরমটা কিছুতেই যাচ্ছেনা। লুঙ্গির তলে পোঁদ ঘেমেনেয়ে একসা। "৩৬৫"র একটা পাতা ছিঁড়ে মুছে টুছে ডাব্বু করে যেই তাকে ড্রেনে ফেলে দিতে যাব, ওমনি সে বলে উঠল - মাও।
কী জন্ডিস! বাদী আবাদি কিচ্ছু নয়, শুধুমুধু মাউমাউ করে কেন?
ওমা! দেখি "৩৬৫" আর পেপার নেই। স্যানিটারি ন্যাপকিন হয়ে আমাকে বেদম মুখ ভ্যাঙাচ্ছে। আমি বল্লাম - কী মুশকিল, ছিলে পেপার, হয়ে গেলে ন্যাপকিন!
"৩৬৫" বল্লো - মুশকিল আবার কী? ছিল আলিমুদ্দিন, হলো নবান্ন। ছিল ব্রাত্তো , হয়ে গেল পাত্থো। ছিলো বেল ভিউ, হয়ে গেলো পি.জি। ছিল ভাগনে, হয়ে গেল বলির পাঁঠা। ছিল ন্যানো কারখানা, হলো তেলেভাজার দোকান। এতো আকছার হচ্ছে।
আমি বল্লুম - সেতো হলো, কিন্তু এখন তোমাকে কী নামে ডাকব? তুমি তো সত্যিকারের ন্যাপকিন নও, তুমি হচ্ছো খবরের কাগজ।
৩৬৫ বল্লো - কাগজও বলতে পারো, ন্যাপকিনও বলতে পারো, আবার পরিবর্তনও বলতে পারো।
আমি বল্লাম - পরিবর্তন, কেন? শুনে ৩৬৫ বল্লো - তা'ও জানোনা? বলেই মুখে খানিকটা কালি লেপে নিয়ে হোঁয়া হোঁয়া করে হাসতে শুরু করল। আমি খুব অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। মনে হলো ঐ কথাটা আমার বোঝা উচিত্ ছিল। তাই সাততাড়াতাড়ি করে বল্লুম - ও হ্যাঁ হ্যাঁ, বুঝতে পেরেছি।"
সে হেসে বল্লো - হেঁহেঁহেঁ! এতো ইস্পস্ট বোঝা'ই যাচ্ছে। পাচু'র 'প', তরকারির 'ত' আর নবান্নের 'ন',
হলো - পতন। কেমন, হলো তো?
আমি ফের ঘেঁটে গেলাম। কিন্তু পাছে মালটা আবার বিটকেল ইস্টাইলে হেসে ওঠে বলেই হুঁহাঁ করে গেলাম। হঠাৎ দেখি, ড্রেন দিয়ে বৃষ্টির জল যাওয়া দেখতে দেখতে, সে বলে উঠলো - বিপ্লব চাও তো, নন্দীগ্রাম গেলেই পারো।
আমি বল্লাম - অত সোজা নাকি? রাস্তাফাস্তা কিচ্ছু চিনিনা। সে বল্লো - সোজা রাস্তা। নন্দন টু ধুতি, সেখান থেকে কালীঘাট, ফুটপাত, বিধানসভা লোকসভা, নন্দীগ্রাম … গেলেই হলো।
তাইলে রাস্তাটা এট্টু ডিটেলে বাতলে দাও দিকিনি।
শুনে খুব সিরিয়াসপানা মুখ করে সে বল্লো - ইল্লি! মাজাকি নাকি? ওসব আমার কম্মো না। আমার পুরুস্কারদা থাকলে ঠিকঠিক বলে দিতে পাত্তো।
- তিনি আবার কিনি? আমি ছড়ালাম। থাকেন কোথায়? দেখা পাব কী করে?
- পুরুস্কারদা আবার কোথায় থাকবে, পুরস্কারেই থাকে। কিন্তু তার সাথে দেখা হওয়ার জো'টি নেই।
আমি বল্লাম - কী রকম কী রকম?
৩৬৫ বল্লো - কী রকম জানো, এই ধরো, তার সাথে দেখার করার জন্যে তুমি গেলে আলিমুদ্দিন, তখন তিনি থাকবেন নবান্নে, যদি নবান্নে যাও, দেখবে তিনি আছেন কংগ্রেসের পার্টি অফিসের পাশে চায়ের দোকানে, যতক্ষণে তুমি সেখানে পৌঁছাবে, ততক্ষণে তিনি চলে যাবেন ভিক্টোরিয়া হাউসের সভায়।
আমি বল্লাম - তাইলে তোমরা দেখা করো কী করে?
- সে অনেক কিচাইন! আগে হিসেব করে দেখতে হবে, দাদা কোথায় কোথায় নেই; তারপর হিসেব করে দেখতে হবে, দাদা কোথায় কোথায় থাকতে পারে; তারপর দেখতে হবে, দাদা এখন কোথায় আছে, তারপর দেখতে হবে, সেই হিসেব মতো যখন সেখানে গিয়ে পৌঁছবে, তখন দাদা কোথায় থাকবে। তারপর দেখতে হবে ……
আমি তাড়াতাড়ি বল্লাম - রোসো রোসো। আগে বলো সে কী রকম হিসেব?
- সে ভারী শক্ত হিসেব। কী রকম দেখবে, বলেই একটা ডান্ডা নিয়ে ঠোক্কর মেরে, এই মনে করো নবান্ন, বলেই মুখে কুলুপ আঁটলো।
তারপর খানিক পরেই আবার - এই মনে করো নীরুপিসি বিপ্লব করছেন। খানিক থেমে - এই মনে করো পুরস্কারদা নোবেল পাচ্ছেন।
একবার করে ঠোক্কর মারে আর পাগলের মতো - এই মনে করো, ছোট্ট ঘটনা। এই মনে করো ষড়যন্ত্র। এই মনে করো চেয়ার মোছা'র ন্যাতা।
রেগেমেগে বল্লাম - ধুর্ বর্গের বাউল! কী সব ফালতু কপচাচ্ছো! এট্টুও ভাল্লাগেনা মাইরি।
- আচ্ছা আচ্ছা, চোখ বন্ধ করো। একটু সহজ করে বলছি।
চোখ বন্ধ করে আছি তো আছিই। কোনো সাড়াশব্দ নেই। চোখ খুলতেই দেখি একটা লম্বা দাড়িওয়ালা কাক মাথা নাড়িয়ে জিজ্ঞেস করছে - বলো তো, আগে চিত্র পিছে সিবিআই। মধ্যেখানে কী?
আমি রেগেমেগে বল্লাম - শালা! বুড়োবয়সে ভীমরতি হয়েছে? মধ্যেখানে আর কেউ নেই, তুমি আছো, তুমি।
কাকটা দাড়ি নাড়িয়ে - হয়নি হয়নি, বলে দুলতে লাগলো।
আমি বল্লাম - হয়নি বল্লেই হলো, আলবত্ হয়েছে।
দাড়ির আড়াল থেকে ঠোঁট নড়ে উঠলো - আগে ছিলো নিরুপিসি, এখন আমি।
আমি বল্লাম - যাচ্চলে! তুমি হলে সবসময়ই তুমি।
সে বল্লো - উহুম! তোমাদের দেশে বুঝি পরিবর্তনের দাম নেই?
কথাবার্তা নেই, হঠাৎ দেখি, সবুজ সামিয়ানার ভিতর থেকে সুরুত্ করে একটা ভল্লুক নামলো। তার সবুজ রঙের ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি, সবুজ রঙের চুল। একহাতে কলকাতা ইউনিভার্সিটি'র উপাচার্যের মত কী একটা ঝুলছে, অন্যহাতে একটা রং-চটা, পুরনো দরজির ফিতে; তাতে সব সংখ্যাগুলো উঠে গেছে, শুধু ৩৪ টা পড়া যাচ্ছে। ফলে সে যা'ই মাপছে সেটা ৩৪ হয়ে যাচ্ছে…
হঠাৎ মাপামাপি থামিয়ে, বুড়ো আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো - বলি, কোন দল? আমি বল্লাম - আগে ব্রাজিল ছিলাম। ওয়ার্ল্ড কাপে জিদান একবার ব্রাজিলকে এমন গোহারান হারালো, কেঁদেকেঁদে আর কূল পাইনে! সেই থেকে জার্মানি।
বুড়ো বল্ল - তা লয়, তা লয়। বলি অন্যায়ে আছো, নাকি প্রতিবাদে?
আমি বল্লাম - কোনো মানুষ আবার অন্যায়ে থাকে নাকি? সব সময় প্রতিবাদে, একশোবার প্রতিবাদে।
বুড়ো বল্ল - কী বুদ্ধির ছিরি! সব সময় প্রতিবাদে থেকে মরি আর কী! প্রতিবাদ করে করে নিজের গুমোরটাই ফাঁক হয়ে যাক! আমাদের দেশে বিরোধী থাকার সময় সিবিআই সিবিআই কর চেল্লানো দস্তুর। তারপর ক্ষমতায় এলেই সেটাকে সাঁ করে ষড়যন্ত্রের রূপ দিয়ে নীচে নামিয়ে দি।
এসব আলফাল কথা শুনে মেজকা'র মত ঘোঁকঘোঁক করে হেসে উঠতে যাবো, এমন সময় টেকো দাড়িওয়ালা কাকটা বলে উঠল - চোওওপ!!! দেখছিস না উন্নয়ন হচ্ছে? এট্টু আস্তে কথা বল।" আমি ওই দশাসই ধমক শুনে রীতিমতো ঘাবড়িফায়েড। কোন দিকে যাব ভেবে এদিক ওদিক তাকাচ্ছি। কাকটা হঠাৎ কানের কাছে এসে বল্ল - আচ্ছা, ভয় পাওয়ার দরকার নেই, বরং গপ্পোটা শোনো।
আমি হ্যাঁ, না, কিছু বলার আগেই সে তার গপ্পো শুরু করে দিয়েছে … "মনে করো, ইতিমধ্যে রাজপুত্তুরের নীলসাদা রঙের বিক্রি কমে যাচ্ছে দেখে নিরুপিসি কলকাতাকে লন্ডন না বানিয়ে আর্জেন্টিনা বানাতে এক পা। ওদিকে মাথার উপর থেকে ব্রহ্মদৈত্যির মতো একটা ভয় বলছে, 'খাপ, খাপ' লোকে ইস্পস্ট শুনতে পাচ্ছে 'বাপ, বাপ রে বাপ!' বুক দেখা যাচ্ছে, পেট দেখা যাচ্ছে! ওই গ্যালো রে, গ্যালো রে, করতে করতে প্রকাশ্যে হিসির দোহাই দিয়ে সকলে যে যার গালে, ঠোঁটে চুমু খাচ্ছে। বুড়োরা ভাবছে - ইসসসস! ছোঁড়ারা ভাবছে - ওয়াও! এ.বি. পি বলছে - যদি 'পাপস তাল'ই হবে তবে রেপ নেই ক্যানো? সকলে বলছে - তাইতো তাইতো, রেপ নেই কেন, রেপ নেই কেন? কেউ তার জবাব দিতে পারলো না
আচমকা কাকটা প্রসন্নবদনে জিজ্ঞেস করলো - পোস্টার পেয়েছো, মিছিলের পোস্টার?
- কই, কিসের পোস্টার? বলতেই একগোছা ছাপা কাগজ বের করে আমার হাতে দিলো। পড়ে দেখলাম বেশ নকশাসহকারে লেখা রয়েছে …
-:আনন্দ সংবাদ আনন্দ সংবাদ আনন্দ সংবাদ:-
আমরা সুবোধ অবোধ নির্বোধ, নেচার মেড, ম্যান মেড, হ্যান মেড, ত্যান মেড সমস্তরকম ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ প্রয়োজনানুযায়ী ঘরেঘরে ছোট বড় মেজো সেজো, আঁতেল, দাঁতাল, মাতাল, নায়ক, নায়িকা, গায়ক, গায়িকা, বণিক, গণিকা মাইক্রো, মিনি, ম্যাক্সি সকলপ্রকার বুদ্ধিজীবী-সহযোগে ঘরে ছেলে ঢোকাইয়া থাকি।
-:opposition life price:- অর্থাৎ বিরোধীদের জন্যে তাহাদের জীবন মূল্য। আপনার লোকাল কমিটি, জেলা কমিটি, আন্ডারওয়্যারের সাইজ প্রভৃতি তথ্য সরবরাহ করিলে ডাকযোগে "ছেলে" পাঠাইয়া থাকি।
-:সাবধান সাবধান সাবধান:-
আমরাই এক এবং একমাত্র আদি ও অকৃত্রিম মিছিল কোম্পানি। আগে কিছু ধুতিপরা লালবাবুরা লেনিনে উদ্বুদ্ধ হইয়া ঘরেঘরে ছেলে ঢোকাইতো বটে, কিন্তু তাহাদের ভ্যালিডিটি শেষ হইয়াছে। ইহাদের শ্লোগানে শুঁটকি মাছের গন্ধ শুঁকিয়া প্রতারিত হইবেন না।
মনে রাখিবেন, এখন আমরাই একমাত্র সস্তা ও টিকাও রেপ কোম্পানি।
বি:দ্র :- স-পুলিস পরীক্ষা প্রার্থনীয়।
কাক বল্লো - ক্যামোন হইসে কত্তা, যটিল না?
আমি বল্লাম - হুম, সবটা গেলা গেল না।
কাক গম্ভীর হয়ে বল্লো - হ্যাঁ, এট্টু কঠিন বটে। একবার একজন এসেছিলো তার নামে আবার ঘোড়ার খুরের মত নালপরা।
বুড়ো ফ্রেঞ্চকাট দাড়িতে সবুজ রঙ লাগাচ্ছিলো। হাঁঊমাঁউ করে তেড়ে এসে বল্ল - ফের 'নাল' বলবি তো, তো একচড়ে তোকে যাদবপুরের ভিসি করে দেবো। জানিস না, ওসব শুনলেই আবার নিরুপিসি রাগ করবেন। বলেই কথাবার্তা নেই ফোঁত্ ফোঁত্ করে কাঁদতে শুরু করলে। কাকটা তাতে থতমত খেয়ে বল্লো - না না, নাল বলিনি, নাল বলিনি। লাল বলেছিলাম। বুড়ো তাই শুনে আরো জোরে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো।
কাক ভয় পেয়ে বুড়োটাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্যে বেশ আস্তে আস্তে বল্লো - আন্দোলন আন্দোলন খেলবি?
সে আবার ক্যামোন খেলা, অবাক হয়ে ভাবছি। হঠাত্ দেখি, বুড়োটা একমুঠো ধুলো তুলে কাকের গায়ে ছিটিয়ে দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো - নন্দীগ্রাম। কাক পাল্টা ধুলো ছিটিয়ে দিয়ে বল্লো - পার্কস্ট্রীট। বুড়ো বল্লো - সিঙুর। কাক - পাড়ুই।
এমনি করে ঠিক নিলাম ডাকার মত একটা করে নাম বলে আর এ ওর গায়ে ধুলো ছিটিয়ে দেয়। কখন খেলাটা শেষ হবে, কখন বাড়ি যাবো, ভাবছি। ও'ম্মা! দেখি আরো কটা লোক এসে হাজির। তাদের চুল সাদা, দাড়ি সাদা, গোঁফ সাদা, ধুতি পাঞ্জাবি সওওওব সাদা। কেবল মাথার ফেট্টিটাই লাল। তারাও এসে সমান উত্সাহে ডাক দিতে লাগলো। কাক যদি বলে - আমলাশোল , বুড়ো বলে - বানতলা। লাল ফেট্টিরা বলে -ত্রিপুরা।
- যাদবপুর
-প্রেসিডেন্সি
-কেরল
গুজরাট
কিউবা
রাশিয়া
হনোলুলু
ম্যাডাগাস্কার
এমনি ডাকের পর ডাক চলতেই থাকতো। কিন্তু সাদা দাড়িওয়ালা একজন এসে 'মিত্রোঁ, খাগড়াগড়' বলতেই … কোত্থেকে একগুচ্ছের রবীন্দ্রনাথের মত দাড়ি কিন্তু গোঁফকাটা লোক এসে - বাঙলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, নাইজেরিয়া, আই এস আই এস, বোকা হারাম, এইসব বলতে লাগলো।
হঠাত্ কাকটা বুড়োটাকে জিজ্ঞেস করলো - পোস্টারটা ঠিক হয়েছে?
বুড়ো বল্লো - দাঁড়া, নীরুপিসিকে জিজ্ঞেস করে নি। বলেই একটা খালের পাশে, যেখানে একজোড়া সবুজ চপ্পল পড়েছিলো সেখানে গিয়ে উঁকি দিলো। ভিতর থেকে আওয়াজ এলো - কী রে শালা! (সরি, আই উইথড্র মাই ওয়ার্ড) কেন ডাকছিস?
চলবে …
বিঃদ্রঃ - ইহা সুকুমারে উদ্বুদ্ধ আপাদমস্তক কল্পিত একটি ননসেন্স পাঠ্যবিশেষ। জীবিত বা মৃত কোনো ব্যক্তি‚ প্রতিষ্ঠান কিংবা ঘটনার সহিত ইহার সাদৃশ্য নেহাতই কাকতালীয়। সুতরাং পাঠ পরবর্তী কোনোরূপ কিচাইনের জন্যে কোম্পানি দায়ী নহে।