Pages

Saturday, 21 June 2014

শুয়োরের বাচ্চা(একটি অণুগল্প )

*শুয়োরের বাচ্চা*

"ধুর **! এদের নিয়ে ফুটবল খেলা হয়! নামেই বিকোচ্ছে সব। যত্তসব ওভাররেটেড প্লেয়ার!"

"ফালতু বকিস না, মনা - জ্বলে উঠলো বুবলা।  খারাপ দিন সক্কলের যায়। সামনেরবার দেখবি আবার ব্রাজিল কাঁপিয়ে দেবে। আরে ওদের রক্তে আছে ফুটবল , বুঝলি? "

" হ্যাঁ , হিমোগ্লোবিন নেই, ইউসিনোফিল নেই , এমন কি চিংড়িমাছের মত হিমোসায়ানিনও নেই।" - ফুট কাটলো মনা। 

" আছে তো আছে। তাতে তোর কি? হারল বলেই অন্য টীমকে সাপোর্ট করব নাকি?  তোদের মত ***.নই। "
তিন অক্ষরের একটা বিষমাল বেরিয়ে এলো বুবলার মুখ থেকে।
মনা বল্লো - "করতে হবেনা। করবি কোন মুখে?  জিদান যা দিলো , এখন চার বছর মুখে সেলো টেপ এঁটে বসে থাক। ফুটবল খেলতে এসেছে শালারা , শুয়োরের বাচ্চা সব! "

" ছাড় না এসব।" শেষ পর্যন্ত দীপকাকেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে হলো। " কোথায় কারা খেলছে , আর তোরা লড়ে মরছিস! "

কিছু না বলে ক্লাব থেকে বের হয়ে হনহন করে  বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলো তিন যুবক। একটু আগেই ব্রাজিল ফ্রান্সের কাছে গোহারান হেরেছে।  রাস্তায় জিদানের কাট আউট নিয়ে বেদম নাচানাচি চলছে। তার সাথে সশব্দে ফাটছে চকলেট বোমা। বুবলা , দীপকা আর মনা , এক পাড়াতেই বাড়ি। তারমধ্যে বুবলা আর মনা খুবই ঘনিষ্ঠ। একেবারে প্রাণের দোসর বলা যেতে পারে একে অপরকে। কিন্তু হঠাত্‍ করে মনা'র এরকম আক্রমনাত্বক হয়ে যাওয়াটা ভালো লাগেনি বুবলার।  খেলায় হারজিত তো আছেই। তাই বলে …

#

শিবতলা পেরোতেই কিছু না বলে বাড়ি ঢুকে গেল মনা। অন্যদিক বাড়ি ঢোকার আগে কত ঠাট্টাতামাসা , কত কি বলে , আজ জাস্ট পাত্তাই দিল না বাকি দুজনে অস্তিত্বকে।

#

" কি হলো , না খেয়েই উঠে যাচ্ছেন যে , লাটসাব?  রান্নাঘরে যে আপনার বাঁদী খাবার নিয়ে বসে আছে , যান খেয়ে উদ্ধার করুন। " বাবার গলায় সেই পরিচিত বিদ্রুপের সুর। হায়ার সেকেন্ডারী পাশ করে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া মনা'র অবশ্য এসব শুনেশুনে অভ্যাস হয়ে গেছে।

" ক্লাবে ফিস্ট ছিল " বলেই সটান সিঁড়ি দিয়ে উঠে এলো। নিচে বাবা আর মায়ের মধ্যে এবার কাঁইকিচির লাগবে।

বিছানার কোণেই নিশ্চিন্তে শুয়ে আছে পলিথিনের প্যাকেটটা।
"শুয়োরের বাচ্চা" মনা দাঁতে দাঁত চেপে একটা কাকে যেন খিস্তি দিল , বোঝা গেল না! 

হাতড়ে হাতড়ে পুরোনো আমুল স্প্রে'র কৌটো  - (যেটাকে সে অ্যাশট্রে হিসাবে ব্যবহার করে) থেকে
খুঁজেখুঁজে একটা বড় দেখে পোড়া বিড়ির টুকরো তুলে নিয়ে জ্বালালো। আসার সময় ঝামেলার জন্যে  শালা বিড়িও কিনে আনতে ভুলে গেছে। খালিপেটে পোড়াবিড়ির ধোঁয়া  যেন ক্যাঁতক্যাঁত করে লাথ মারছিল।
পরপর দুতিনটে পোড়াবিড়িতে টানটান দিতেদিতে প্যাকেটটা খুললো মনা। একটা টকটকে হলুদ জার্সি ,
পিছনে বড় করে একের পিঠে একটা শূন্য দেওয়া।
মিলনী সঙ্ঘের বিরুদ্ধে হ্যাট্রিক করার পর ওদের কোচ তরুনদা গত পরশুই দিয়েছিল। বলেছিল " আমার দেশী রোনাল্ডো "
মনা ভেবেছিল এবার সারাবছর এই জার্সিটা পড়েই প্র্যাকটিসে যাবে সে।

হঠাৎ জার্সিটাকে বুকে চেপে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো মনা। কান্নার আবেগে কুড়ি বছর বয়সী দেহটা দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে। সাপের ছোবল মারার মত ক্রুদ্ধ হিসহিসে'র সাথে একদলা করে থুতু বের হয়ে আসছে মুখ থেকে। ঘোরে পাওয়া রোগীর মত বিড়বিড় করেই চলেছে সে - "শুয়োরের বাচ্চা.. শুয়োরের বাচ্চা..শুয়োরের বাচ্চা …

দেওয়ালে ন্যাড়ামাথাওয়ালা একটা লোকের সদাহাস্যময় মুখের পোস্টার। জানালার ফাঁক দিয়ে আসা মৃদু আলোতে তার উঁচু হয়ে থাকা দাঁতগুলো তখনো চকচক করছিলো।

# পীযূষ কান্তি বন্দ্যোপাধ্যায়

No comments:

Post a Comment