কহিলাম -প্রভু ,মনো:কষ্টে আছি।শয়নে স্বপনে জাগরণে আমার চতুর্পার্শ্বে বিল্ব-দর্শন হইতেছে। ইহা কি সামান্য নাকি অস্বাভাবিক ব্যাধি,জানিতে ইচ্ছুক। দয়া করিয়া অধমের এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জ্ঞানার্জনের ইচ্ছাকে তৃপ্ত করিয়া বাধিত করিবেন।
গুরু কহিলেন -"ওরে ব্যাটা পাঁঠা ,বাংলা বলতে কি পোঁদ ফাটে? কতোবার না তোকে বলেছি,আমার সামনে ভাষা মাড়াবি না ,তা তোর কানে তো জন্মগত হাইড্রো! নিজের গোঁ থেকে নট নড়ন নট কিচ্ছু!"
সবিনয়ে স্রাষ্টাঙ্গে গুরুচরণে প্রণিপাত করিয়া নিবেদন করিলাম -ভক্তান্তপ্রাণ,নির্ধনের ধন,আপনি তো জ্ঞাত মহারাজ যে সঙ্গদোষে শতগুণ নাশে। এই অধমেরও সঙ্গদোষে সেইমত সর্বগুণনাশ হইয়াছে। এখন এইমতে যদি পাতকীকে ত্যাগ করিবেন ,তবে প্রাণান্ত ব্যতীত উপায় দেখিনা।
"সে যাকগে ,তোরা বাঙালীরা তো জন্মগত শুয়ার্। আমার মত ইন্টারন্যাশনাল লোকের ফ্লেক্সিবিলিটি তো তোদের বাপদাদাদেরই ছিলনা। তো তোরা তো কোন ছার ..তা বল ,কি বেল দেখছিস? বড় বেল নাকি কয়েত্ বেল?"
আমি কিয়ত্ক্ষণ নিরুত্তর রহিলাম ,কারণ শ্রীফলের আকার সম্পকে কিঞ্চিত্ সন্দীহান ছিলাম।
শ্রীপাদ গর্জন করিয়া উঠিলেন-"শালা!দেখবি ,দুম করে আধুনিক কবিতা ছুঁড়ে মারবো ,একটা আলাদা হয়ে ড্রেনে পড়ে যাবে। সারাজীবন মাটির গুটুলি পাকিয়ে ভরে রাখতে হবে। তলে ঘাস বেড়িয়ে গেলে দিনরাত ছাগলের তাড়া খেয়ে মরবি।বলি মিষ্টি লেগেছিল ,নাকি হাল্কা কষা ,হালকা টক?
নিম্নস্থ গোলাকৃতি বস্তু মস্তকের দিকে ধাবিত হইলো।
খড়মের দিকে আড়চোখে দৃষ্টিপাত করিয়া য পলায়তি স জীবতি মন্ত্র আউড়াইতেছি কিন্তু প্রয়োজন হইলোনা।
এইবার অধমকে বলিপূর্ব অসহায় পন্ঠকের ন্যায় কম্পিত হইতে দেখিয়া গুরু কিঞ্চিত্ মৃদুস্বরে কহিলেন-তাও জানিসনে! আহাহা! পোলাপান!
বেশ ,এট্টু ভেবেচিন্তে বল দিকিনি,বেলে আঠা ছিল?"
কহিলাম-স্বাদগ্রহনের সুযোগ উপলব্ধ হয় নাই,মহারাজ।
দিবারাত্রি নয়নসম্মুখে দুলিয়া দুলিয়া ঝুলিয়া থাকে সত্য কিন্তু স্বাদু নাকি বিস্বাদ তাহা বলিতে এ অধম অপারগ।
"কি ঝঞ্ছাট!ইকি অত্যাচার,এখন আন্দাজে কি বিধান দিই,বল ধিনি!তার উপর তোর এই ইয়ের মত ল্যাঙ্গুয়েজ!বলি,কোথায় দেখলি ,কখন দেখলি ,কিছু তো ডিটেলে বলবি নাকি?
সেতো নিত্য দেখি, প্রভু। ফেসবুকস্থ বৃক্ষে ঝুলিয়া থাকে। টি আর পি নামক এক অদৃশ্য মহাজাগতিক শক্তির প্রভাবে প্রভাবিত হইয়া কেহ দৈনিক ,কেহ সপ্তাহান্তে কেহ বা এক পক্ষকাল বাদ গোলাকৃতি হইতে ডিম্বাকার ,আবার ডিম্বাকার হইতে পুনরায় গোলাকৃতি লাভ করে।
তবে চৌকো শ্রীফল দেখিয়াছি কিনা স্মরণ হইতেছে না।
সর্বগুণনিধি দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া কহিলেন-"হুম্মম্মম!"
তাহার পশ্চাতে এক বিকটাকার ঝোলা হইতে একটি নিটোল তাম্বাকুর দন্ড বাহির করিয়া,তাহার অগ্র ও পশ্চাতে "ওঁ বিষ্ণু! বলিয়া অষ্টতরশতবার ফুত্কারের শব্দ করিলেন। অতপর "ওঁ চিত্পিঙ্গল হনোহনো দহোদহো,পচোপচো সর্বকর্মণে সাধয়ে স্বাহা " বলিয়া তাহাতে অগ্নিসংযোগ করিলেন।আশ্চর্য হইয়া দেখিলাম তাহার মুখ হইতে দাউদাউ করিয়া অগ্নিদেবতা পারিষদসহ বাহির হইয়া আসিতেছেন।
উক্ত কুসুমাস্তীর্ণ আশ্রম তাম্বাকুর ঘ্রাণে ম ম করিতে লাগিল। গুরু স্মৃতমুখে কহিলেন-"তুই তো ক্ষণজন্মা রে,বোকা**!তোকে মাদিমুখো হুতুম ভাবতুম,তালুকদারের ভালুক ভাবতুম ,হনোলুলুর লুলুরাম ভাবতুম ,তা সে তো আমার পাপ হইচে। অপরাধ হইচে। তোর এইসব যা সিন্টম দেকচি তাতে মোক্ষ বলেই মনে হচ্চে রে।শুদু এট্টু ডাউট হচ্চে এই ভেবে .."
নিশ্চিত দেবত্ব'র বিড়ম্বনা হইতে আচমকা সংশয়ের সম্ভাবনায় বিকশিত হইয়া উঠিলাম।বাক্যবাণ কিংবা নিখুঁত খড়ম ক্ষেপনের হাত হইতে পরিত্রান পাইবো এই আশা যদিও ছিল না তবুও ..
"মহানির্বাণ ইউজুয়্যালি পঞ্চাশ পঞ্চান্ন বচরের পর আসে ,বুইলি? তুই এই তিরিশের কোঠা পার করেই কিকরে এই মহাসঞ্জীবণী'র সন্ধান পেলি? ভাবতেই আমার রোঁয়া খাড়া হয়ে উঠছে।"
"দ্রাক্ষারুষ্ট প্রভু?এতক্ষণে অপরিচিত বস্তুসকলের উল্লেখে বিমর্ষ হৃদয় পরিচিত শব্দবন্ধের উল্লেখমাত্র চৈনিক দস্যুর মত উত্ফুল্ল হইয়া উঠিল।
প্রভু কহিলেন -"দুসশালা!তোদের ভাটের সাইন্স অবশ্যি একে পটাটোম্যানিয়া বা আলুর দোষ বলে কিন্তু ও গাধার বাচ্চারা জানেনা ,এই ক্ষমতা নিয়ে কোনকোন মহাপুরুষ একশো বচরে একদুবার জন্মায়। কেউকেউ আবার কঠোর তপস্যার পর এই সুপ্রিম পাওয়ার লাভ করে। এ ক্ষমতা যত ব্যবহার করবি,তত বাড়বে।মহাজ্ঞানী মহাজন ,যে পথে করে গমন ''শুনিসনি রে বাপ। তুই এক কাজ কর ,একন থেকে জাপানী তেল লাগা আর রামের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চল্।"
জাপানী তৈলের কথা শ্রবণে করা মাত্র তলপেট হইতে দিব্যগুড়্গুড়ি উঠিতে লাগিলো।আশ্চর্য হইয়া দেখিলাম আপাদমস্তক অভুতপূর্ব ভক্তিগুদগুদি অনুভব করিতেছি। ইষত্ চিন্তিত হইবার অভিনয় করিয়া গাঢ়বদনে নয়ন অর্ধোন্মিলিত করিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম-পরন্তু রামের পদাঙ্ক তো বহুপ্রাচীন ,প্রভু
মিলাইয়া যাইবার সম্ভাবনা প্রবল। এমতবস্থায় কি কর্তব্য যদি দয়াপরবশ হইয়া কহিয়া দেন ...
প্রভু আকর্ণবিস্তৃত স্মৃতহাস্যে ভগ্নপ্রায় তালবৃক্ষের ন্যায় দুলিতেদুলিতে অধমের ছাগশিশুর ন্যায় নধরকান্তি প্রত্যক্ষ করিয়া কহিলেন -"রাম নেই তো কি হয়েছে রে পাগলা? বাপু আশারাম তো আছে।"
পরিপক্ক শ্রীফলের গন্ধে ভারি দক্ষিণা বাতাস ফেসবুকস্থ সমস্ত বৃক্ষের শাখা দুলাইয়া শনশন শব্দে বহিয়া গেল।
দেখিলাম ,আমার উভয় পার্শ্বে যুগল পক্ষ নির্গত হইতেছে।যারপরনাই ভীত হইয়া গুরুদেবের নাম ধরিয়া ডাকিতে গেলে নিজের বায়সকন্ঠ শুনিয়া নিজেই স্তম্ভিত হইয়া জ্ঞান হারাইলাম।
(বি দ্র:-এক্ষণে ব্যাকগ্রাউন্ডে'ওঁ জয় জগদীশ হরে'বাজিতে থাকিবে)
No comments:
Post a Comment