বাঙালিয়ানা - এক
বাঙালিয়ানার সমস্যার শেষ নেই। টাকার দাম কমছে , জিনিসের দাম বাড়ছে। পোগোতীশীল দলের ভোটের শেয়ার চোলে যাচ্ছে সাম্প্রোদাইক দলের ঝুড়িতে। এসেনশিয়াল পোটা হয়ে যাচ্ছে , কোথাও প্রথম নোটা হয়ে যাচ্ছে , প্রেমিকা মোটা হয়ে যাচ্ছে, ট্রাডিশন্যাল সোংস্কিতিমনা বাঙালীর ধনের কলসী ক্ষয়েক্ষয়ে লোটা হয়ে যাচ্ছে।
আই.পি.এস আই.সি.এস এ পাত্তা না পেয়ে শারুক্ষানের ইয়ে ধরে আড়াইখানা বাঙালী দিয়ে গড়া নাইট রাইডার্সের হোয়ে সর্বোভারোতীয়ো কম্পিটিটিভনেসের সুপ্যারিওরিটি মাড়াচ্ছে মহানাগরিক বাঙালিয়ানা।
কালচারের ধুতির নিচে বাবাজীর ঘন্টার মত একদিকে ঝুলছে দার্জিলিং , অন্যদিকে জয় অম্বেমাতা, জগদম্বে মাতার প্রভাতীভজন।
ধম্মোনিরোপেক্ষো বাঁশ নিয়ে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ক্যাটওয়াক করার পর পরিবর্তনের গুঁতোই নিত্যোদিনকার পরমার্থিক কোঁত্ কোষ্ঠকাঠিন্য ভুলতে খেঁদিপেঁচি কিচ্ছু না দেখে হিসু করার ক্ষমতায় অগাধ বিশ্বাস রেখে কানা ছেলেকেও পদ্মলোচন সাজিয়ে পার্লামেন্টের কানাগলিতে ম্যাও খুঁজতে পাঠাচ্ছে।
মাইরি! কি রগড় , কি রগড়!
টিভিতে "পাঙ্গা নিবিনা শালা " দেখতেদেখতে, গিন্নির সাথে আলুপোস্তোমাখা পিন্ডি চটকাতে চটকাতে "মেয়েছেলে , কোথায় ঘরকন্না করবি , দু পাঁচটা ছেলেপুলে পস্যাবি , বড়জোর একটা স্কুলমাস্টারের চাকরি , নাহলে বার দেখো পাহাড়ে উঠতে গেছে !" বলেই আকর্ষণহীন চেনা শরীরের সাথে ধস্তাধস্তি করার আগে বিড়ি ধরিয়ে ফেসবুকের দেওয়ালে "ফিরে এসো বাঙালীর মেরুদণ্ড , ছন্দা গায়েন " লিখেই উদার আর মানোবিকতার পোতিমুর্তি সাজছে বাঙালী। কিন্তু ঝিলিকের মায়ের মত ছন্দা সেই গেছে তো গেছেই। ফেরার নাম নেই। সিরিয়ালে প্রত্যেক বৌয়ের দুটো করে , ইন সাম কেসেস তিনটে করে বর। বরদেরও দুটো তিনটে করে বৌ ,মাইরি বোঝা যাচ্ছেনা কে কার দেখে শিখছি - আমাদের দেখে টিভি , নাকি টিভির দেখে আমরা!
অ্যাংলো অ্যাকসেন্টে রোব-ইন-ড্র সোঙ্গীত গাইছে ফিদোল কাস্ত্রো আর অ্যামেরিক্যান পতাঙ্গা আঁকা টি-শার্টের যুবক। জন্মের পর থেকেই পেট নেম বাবু ,সোনা, মনা থেকে পিছলেপিছলে যাচ্ছে টনি , বারাক , লিও , লোলিটা'র শানবাঁধা ঘাটে।
ইন্টারন্যাশনাল হোচ্ছে বাঙালী।
যেমন একসময় কল্পিত সেমেটিক বিশ্বভাতৃত্বের ঠ্যালায় সাদ্দাম আর ওসামায় ভরে গিয়েছিলো ধম্মোনিরোপেক্ষো বাংলার এপ্রান্ত ওপ্রান্ত।
রাখীও ভুলছি না , রাখী সাবন্তকেও না। ঋতুপর্ণ কিংবা নিখাদ পর্ণোতেও আহাছিছিগেলোগেলো'র পাশাপাশি লালাটসটসে জিহ্বার কারুকাজ দেখাতেও তেমন আপত্তি আছে ভাব্বেন না।
তারসাথে মুখ্যমন্ত্রীর গর্মেন্ট নিয়ে ভাবনার ভাগ আর বাঙালীয়ানা নিয়ে বুলি কপচাতে গিয়ে ওতিউত্সাহে কবীর সুমোন বলে দিচ্ছেন - ভারোতবর্ষো নিয়ে তার আবেগের ভাঁড়ার শুন্য। কিন্তু ভক্তরা সেটা না মানতে পেরে বিন্দাস তাকে "ইন্ডিয়ান" বলে গালাগালি করছে। ব্রাত্যোবাবু চাটতেচাটতে অভ্যাসবশে পায়ের পাতা কামড়ে দিয়ে নিজেই ব্রাত্যজন হয়ে গিয়ে পর্যটন নিয়ে "খাচ্ছে কিন্তু গিলছে না" টাইপের হাফবাতেলা হাফশোকার্ত কালোকুচ্ছিত্ কন্যার বাপের সুইসাইডাল পোজ মার্ছেন।মোদি মুসোলমানদের বাঙলাদেশে তাড়াবার আগেই মহানেত্রী(মহা এপিসোডের মতো ) তাবত্ বাঙালী ডানবাম ইয়ারবন্ধুসহ সক্কলকে বাঙলাদেশ কেন হনোলুলুতে পাঠিয়ে দিলেন।
ওদিকে পূর্বতন কলিমুদ্দিন শামস বা অধুনা মদন মিত্রের মত শিক্ষিত ব্যক্তিকে মন্ত্রীত্ব করতে দেখে অভ্যস্ত বাঙালী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর তিনচার রকমের সার্টিফিকেট দেখে অনর্গল ছ্যা: ছ্যা: ঢেকুর তুলে অম্লজিনের বিজ্ঞাপনে আপাতশান্তি খুঁজছে।
এসোব হোচ্ছে , বুঝলেন , দাদা। কিন্তু তবুও এইসব কিচাইনের মধ্যেও শালা মহাহারামী ফুটবল বিশ্বকাপ আসছে। একহস্তে খেলার রুটিন আর অন্যহস্তে পোতিবাদ নিয়ে বাঙালী "অন ইউর মার্ক , রেডি , স্টেডি " হয়ে ক্যাটালগ দেখে নেশার রং বেছে রাখছে। ব্রাজিলের গরীবদের কষ্ট দেখে পোঁদ ফেটে মরে যাচ্ছে দৈনিকের বিশেষজ্ঞদল। কিন্তু স্বল্পবসনা চিয়ারলিডারদের ঠ্যাং দেখে সন্তর্পনে তৈরি হওয়া ভুখ হ্রস্ব থেকে হ্রস্বতম হয়ে অবশেষে নাই হয়ে যাওয়া ব্লন্ড কিংবা ব্রুনেটদের চকাচক গতর দেখার জন্যে দুধগঙ্গাজল চাওয়া মুমূর্ষুর মত ইয়া হাঁ প্রস্তুত করে বসে আছে , তার কি হবে?
পুরুষতন্ত্রের প্রতীক কুতুবমিনার ইত্যাদিইত্যাদি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কর্মসূচী আপাতত বাতিল। ম্যাদামার্কা সচীন দেখে একঘেয়ে হয়ে যাওয়া নারীবাদ সাপের মত কিলবিলে পেশীবহুল রোলান্ডো'র ট্রেলার দেখেই অর্গাজমের চূড়ান্ত।
কবিতায় দিনের পর দিন বীর্যপাত আর করোটির অ্যাবসোলিউট মেজোরিটি বাড়ছে।যদিও বিভিন্ন সভাঘরে গিয়ে চার লাইন মুখস্থ বলার সময় "চোখ বন্ধ করে ভরসা রাখতে হচ্ছে " সাত পুরনো রবি কিংবা জীবনানন্দতেই।
মেটাফর , মেটামোরফোজ, প্রভৃতি মেটার ঘাড়ে চড়ে মেয়েকবির প্রোফাইলে পিকচারে হামলে পড়ছে কবিকূল। বিষ্ণুর ছিঁড়ে যাওয়া ছবির পরিবর্তে ফ্রেমে গুঁজে রাখা সান্নি লিওনের ছবিতেই ধুপকাঠি জ্বালিয়ে সন্ধ্যা দেখাচ্ছেন বুড়ো ঠাকুরমার ছানিপড়া চোখ। খবরের পাতায় ধর্ষণের খবর খোঁজা বাদ দিয়ে আজকাল আ-মোদী-ত হয়ে শেয়ারসুচক দেখছেন পাড়ার ইউনিভার্সাল দাদু।
আর দিনের পর দিন বিরোধীদের ষড়যন্ত্রে জনসংখ্যার সাথে পাল্লা দিয়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। ভুলভাল খাতা দেখার ফলে মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিকে এগিয়ে যাচ্ছে অজ্ঞাতকূলশীল জেলার ছেলেমেয়েরা। মেট্রো সংস্কৃতির আনাচেকানাচে হপ্তা অন্তর একটা করে কুমারী দুলহান্ গিফট দিচ্ছে উন্নোয়োন।
তেমন বৃষ্টি যদিও এখনো হচ্ছেনা বাঙালী কিন্তু ম্যাচিউর হচ্ছে ঠিকই।
No comments:
Post a Comment