Pages

Saturday, 28 September 2013

রাস্তার ছেলে

‘হাস্যকর তোমার অতীত হাস্যকর তোমার ভবিষ্যৎ...
ঘটনাহীন ঘটনাহীন মস্ত ঘটনাহীন তোমার জীবন
কফির কাপে, মিছেই তুমি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছো তোমার ব্যগ্র চামচ
তোমার মাথার ওপর চিরপুরাতন, সেই এক, পতনোন্মুখ চাঁদ
...এক শুয়োর এই সে দিন তোমাকে অপমান
করেছে, তোমার আত্মা, লম্বা জুতোর চেয়েও আরও লম্বা হয়ে গেছে হঠাৎ
...বছরের প্রথম দিনেও তুমি ঘুরে বেরিয়েছ একা একা
বছরের শেষ দিনেও তাই’

চাহিদা ছিলোই,জীবনানন্দের হাত ধরে যার শুরু পরবর্তীতে ,শক্তি ,শঙ্খ ,বিনয় সুনীল  হয়ে, হাংরি আর কৃত্তিবাসের পাড়া ঘুরেঘুরে চলছিল সেই আর্বান  য়াঙ্গস্ট বা নাগরিক যাপনের ছত্রেছত্রে লুকিয়ে থাকা অবদমিত ক্রোধ,না পাওয়া,দৈনন্দিন বিশ্বাসভঙ্গ এবং হতাশা ,আর বিকৃতিকে প্রকাশ করার মত উপযুক্ত ভাষার খোঁজও ..
আচমকা এক কূলশীলহীন রাস্তার ছেলের হাত ধরেই এলো সেই উচ্চারণ যা আর্বান জটিল যাপনের মূক অসহায়তাকে বাঙ্ময় করে তুলছিল।
এই ক্ষয়াটে নাগরিক জীবনের অথেনটিক ভাষাতেই ভাস্কর লিখে গেলেন বিষাদফিস্ফোরণের রোজমানচা ,আশার আশাবরী কিংবা নির্লিপ্ততার চুরান্ত মহাকাব্য।

তাই ভাস্করকে ভালোলাগে ,ভালোবাসতে ইচ্ছে করে ,কারণ ভাস্করের কবিতা খুনীর হাসির মত তীক্ষ,হাটুরের পায়েপায়ে মুছে যাওয়া আলপনার মত জীবন্ত,পঞ্চদশীর প্রথম ঋতুস্রাবের মত নিশ্চিত ,গরীব বিধবার পুত্রহারানোর গভীর শোকের মত নির্মম।

যদি সমস্ত ভাষার ইতিহাসের পাঁক ঘেটে দেখি
অনেক বিখ্যাত কবিদেরই পাব যারা আমাদের মনের কথা একেবারে মনের মত করে লিখেছেন। কিন্তু তাদের আলাদা জীবন ছিল। ভাস্কর চক্রবর্তী এখানেই ভিন্ন ,কবিতা দিয়েই গড়ে নিয়েছিলেন নিজের আপাতসাধারণ জীবনকে। পরিচিত হাসিকান্না,পাওয়া না পাওয়া,সাময়িক নির্লিপ্তি আবার কখনো চকিত বিস্ফোরণকে উপজীব্য করে দিনের পর দিন গেঁথে গেছেন কবিতার জাল। জন্মদরিদ্র্য ভাস্করের কাছে কবিতা ধরা দিয়েছিল এক অনোখা মুক্তির আশায়।
কবিতার একটা পংক্তির সাথে অন্য পংক্তির অসীম দুরত্বের মধ্যেও যে এক নিবিড় নৈকট্য লুকিয়ে থাকে ,
ভাব ও ভাষার সহজতর ব্যবহারেও গভীর জীবনবোধকে রিপ্রেজেন্ট করা যায়,অহেতুক ঠেলেঠুলে দর্শনকে না ভরেও বারোয়ারি জীবনের পাতি রুটিনেও যে কবিতার
মালটিডাইমেনশন্যাল উপাদান লুকিয়ে থাকে,এই বিশ্বাসই ভাস্করকে আমার মনের কাছাকাছি এনে দিয়েছে।

আরবান উদাসীনতা, আধুনিকতার মনস্তাত্ত্বিক সংকট ,একাকীত্ববোধ,হোমসিকনেস ,উচ্ছ্বাস, প্রভৃতি বারবার ভাস্করের লেখায় ঘুরেঘুরে এসেছে।
নিজেও স্বীকার করেছিলেন,এই অসীম স্বাধীনতা(অনেকের কাছে যা স্বৈরাচার বলে নিন্দিত)তার লেখায় দাপিয়ে বেড়িয়েছে।
এক আশ্চর্যরকমের ক্যাসিক আবহের মধ্যে
লালিত ভাস্করের কবিতায় প্রায়ই অপ্রত্যাশিত ইমেজকে ব্যবহার করে কোন চেনা একঘেয়ে ঘটনাকে অসাধারণ করে তোলার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়।
নির্দিষ্ট কোন বিষয় না খুঁজে যেকোন বিষয়বস্তুকে কবিতা করে তোলার মুনশিয়ানা তার ছিল।
তার সাথে ছিল শুচিবাইহীন শব্দপ্রয়োগের অসাধারণ দক্ষতা ,আর ঠিক এই কারণেই তার অনায়াস শব্দপ্রক্ষেপ আমাদের মুগ্ধ করে।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে 'শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা'নামক কাব্যগ্রন্থের হাত ধরেই ভাস্করের পথ চলা শুরু। তারপর 'এসো সুসংবাদ এসো'র হয়ে যাত্রা চলতে থাকে ২০০৫ পর্যন্ত ,
আপাদমস্তক মুক্তমনের মানুষ ভাস্কর দ্বিধাহীন ভাবে বলতে পারেন-'ঈশ্বর আমি বোঝাতে পারিনি,মন্দিরে থুতু ছিটিয়ে দিলেও মানুষের কিছুমাত্র ক্ষতি হয়না'
কি সত্য আর সাহসী উচ্চারণ! ভাস্কর পড়ে এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করার প্রয়াস আমি স্বচক্ষে দেখেছি।
মৃত্যচেতনা এবং এবং পলায়নবাদের বাড়াবাড়িরকমের প্রভাব  ভাস্কর সমসাময়িক অনেক কবিদের মধ্যেই দেখা যায়। কিন্তু মৃত্যুকে এত তুচ্ছ করে,সেই ভয়াল,বিমূর্ত সিংহাসন থেকে টেনে নামিয়ে আনার কৃতিত্বও ভাস্করেরই। যেহেতু মৃত্যু নিশ্চিত,তাই তার জন্যে অনন্ত অপেক্ষা করে থাকার নিয়তি কিংবা  তার সর্বগ্রাসীরূপ নয়,বরং ভাস্করের কাছে মৃত্যু ছিল ছেলেখেলার বিষয় মাত্র। আর এস্কেপিজম নয় বরং ঘষা রঙচটা জীবনের কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়াই ছিল তার সাময়িক মুক্তির উপায়। এই ভিন্নতা,এই এক্সট্রাঅর্ডিনারী জীবনবোধের উন্মেষই ভাস্করকে প্রিয় প্রিয়তর হয়ে প্রিয়তম করে তুলেছে।
প্রতি সন্ধ্যায় /কে যেন ইয়ার্কি করে ব্যাঙের রক্ত /ঢুকিয়ে দেয় আমার ভিতরে -আমি চুপ করে বসে থাকি -অন্ধকারে ' কিংবা  'জিভ দিয়ে ছুঁয়ে দেখেছি মৃত্যু '

'পোস্টমাস্টারের মেয়ে শুধুমাত্র জুতোজোড়া নিয়ে
বাড়ি থেকে চলে গেছে/তার সঙ্গে গোলাপী যুবক -তারা স্বর্গে যাবে/আমাদের স্বর্গ নেই স্যারিডন আছে।

জৈবিক চাহিদা ,মরণ এবং মরণের হাত থেকে পরিত্রান পাওয়ার এই জাতীয় হাইবারনেশন পাঠকদের মজ্জার মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে পেরেছিলেন বলেই ভাস্কর আজও মনের মনিকোঠায় অম্লান।

সন্দেহ নেই ভাস্করের জীবন ছিল কোলকাতা কেন্দ্রিক। সুতরাং এই আর্বান লাইফের বাইরে যে বৃহত্তর জীবন সেটা তার লেখায় তেমনভাবে উঠে আসেনি। কিন্তু এই খামতি ঢেকে দিয়েছে তার অপার তন্ময়তা।
পথঘাট,গলি ,পার্ক ,সমস্তকিছুর সঙ্গে তাঁর একটা আত্মিক টান তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
এই আপাতনিরীহ পথে ধারেও যে এক অসীম রহস্য ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে,সেই চিরঅসহায়,মূক কিন্তু চিরন্তন সত্যের কথালিখে রাখাটাই  যেন তার কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।প্রত্যেকটি ক্লীবলিঙ্গও যেন তার সাথে সেই একই নিমগ্নতার সাথে ভাবনার চিতায় শুয়েছিল।তাঁর 'জীবন-সংক্রান্তি' কবিতায় '
'আমি শুধু ঘুরি, আর/ ঘুরে মরি/চেয়ে দেখি, আমার জীবনে শুধু রাস্তা পরে আছে- ধু-ধু-রাস্তা পড়ে আছে শুধু।
কিংবা '' ট্রাম থেকে নামতে-নামতে আমি বুড়ো হয়ে গেলাম কলকাতায়/ আমার জীবন, আমি কার্পেটের মত কলকাতায় বিছিয়ে দিয়েছি।

সুখ নয় বরং এক অনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রনায় আধুনিক মানুষের নিত্যসঙ্গী ,তারই ফাঁকেফাঁকে আসে প্রেম,বিশ্বাস ,বিশ্বাসভংগ ,মায়া ও মমতার মত ছোট্ট কর্ডলাইনের স্টেশন। তাই ব্যক্তিগত সুখে নয় বরং স্পর্শকাতরতায় ভাস্করকে বেশী করে চেনা লাগে।
মনে হয়,আমার দেখা,আমার দেখানোর মধ্যেই ভাস্কর লুকিয়ে আছে।

'রান্নাঘরের দরজা থেকে আমাদের নাটকের শুরু, নাটকের/প্রধান প্রধান চরিত্রের, যথাক্রমে-খিদে,/বুক ব্যাথা, নিঃসঙ্গতা, বিচ্ছিন্নতা, ভয়, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি ইত্যাদি।/ নিঃসঙ্গতা শুধু মিলিয়ে যেতে যেতে মুছে দিচ্ছে আমাদের চোখের জল।

কিংবা ....

সুন্দর একটা জীবনের ইঞ্চিখানেক পাশ দিয়েই/ চলে গেলাম হয়তো/ খুব জোর আর ১৭ মিনিট।

কিংবা -'সারাজীবন গরম একটা কড়াইএর উপর নেচে গেলাম '

এইযে আপাতসরল কিন্তু বাস্তবজীবনের ভয়াল,ভয়ংকরতম রূপটির পরিচয়বহনকারী অমোঘ সত্য উচ্চারণ ,একে ভালো না বেসে  এড়িয়ে যাব কি করে?
সময় বদলাচ্ছে দ্রুত ,পরিস্থিত পরিবর্তিত হচ্ছেনা।সেই মৌলিক প্রশ্ন আবার জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন পড়েছে .."ওগো বেঁচে আছিকি ,বেঁচে আছি তো????????

শ্যামলীকে

শ্যামলী,আজ তোমার কথা খুব মনে পড়ছে। সেই তুমি,সেই চৌকিদার,সেই বাঁশঝাড়ে "ওয়েটিং ফর টু-নাইট" গুনগুনানো আমি,
কি একখানা অনোখা ট্রায়াঙ্গুলার প্রেমকাহিনী সূত্রপাত হয়েছিলো,বলতো?
আজ যখন ইউনিফর্ম আর স্কুলব্যাগে সেজে বাসে ওঠো কিংবা বান্ধব পরিবৃতা
কলেজফেরৎ আসতে আসতে,হাসতে হাসতে নিজের বুকে তোলা ঢেউ  অন্যের বুকে ছড়িয়ে দাও,তখনও তোমাকে তেমনই মোহময়ী লাগে,জানো?

আজকাল আমার কথা আর ভাবোনা,বোধহয়!একটু মোটা হয়েছি,সম্ভবত অতিরিক্ত মদ্যপানের ফল,লোকে বলছে,সুখ
,খুব জানতে ইচ্ছে করছে,
এখন দেখলে তুমি কি বলতে?
অথচ কালকে যখন বাসে ঝুলতেঝুলতে অফিস যাচ্ছিলে,ইচ্ছে করলে দিব্যি কথা বলা যেতো। কিন্তু বাহুসন্ধি আগের মতই
ভেজা কিনা দেখতে গিয়েই হুস করে বাস ছেড়ে দিলো।

জানো শ্যামলী,সবাই বলছে আবার ভোট হবে,
আবার খুনোখুনি হবে,বারোয়ারী রেপ হবে,
আবীর উড়বে,মাইক বাজবে,
কদিন পরে আমরা সবাই তোমার যোনির ধর্ষণের প্রতিবাদে মোমবাতির মিছিল করে আবার তোমার অযৌন ধর্ষণ করবো।
তোমার মথিত স্তনের উপর কৃষিকাজ করবো,পচাগলা মেয়েরা ভালো সার হয়,জানো?
তোমাকে নিয়ে খুব ভালো শিল্পও হতে পারে,তুমি খুব ভালো বিনিয়োগ।
অনেক বিদেশী মূলধন আসবে তোমার নাভিপথে

তুমি কোন দল করো,শ্যামলী?কমিউনিসম বোঝো?
কাপিট্যালিযম?আমেরিকা,রাশিয়া,কিউবা,
ফিদেল কাস্ত্রো,পেরেস্ত্রোইকা,বোঝো?
ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে কোনো ধ্যানধারণা আছে তোমার?আদবানীর ফ্ল্যাটে কোনো ঠাকুরঘর নেই,লাদেন
আসলে একজন ঠান্ডামাথার ঈশ্বরে অবিশ্বাসী কবি ছিলেন,এইসব ইনফো তোমার কাছে আছে,শ্যামলী?
আজকাল আমরা ধর্ষণের ক্ষতিপুরন দিচ্ছি।
এখন ধর্ষিত হলে বেশকিছু টাকা পেতে পারতে। তোমার প্রয়োজনও তো ছিলো,আর আজও  আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারিনি,ঐতো কটা টাকা,
আজকাল তারচে কত বেশি টাকা সিগারেটের পেছনে চলে যায় ।

বলেছিলে ,পরিবর্তন এলে হায়েনাদের হাত থেকে মুক্ত হবে দেশ,আমরা ভালো থাকবো,
খুব ভালো থাকবো। খুব জানতে ইচ্ছে করছে,ঠিক কতোটা ভালো আছো নব্য হায়েনাদের রাজত্বে?
আসলে তুমি,আমি সকলে জঙ্গলকে ঘর মনে করে
নিশ্চিন্তে ছিলাম,নিশ্চিন্তে আছি।

আমরা তখনও মরেছি,এখনও  মরছি,তুমি তখনও রক্ত মেখে নগ্ন হয়ে পরে থাকতে,এখনো নগ্ন রক্তাক্ত হয়েই পরে থাকো।
কিচ্ছু পাল্টায়নি,পাল্টায় না,আমরা শুধু স্বপ্ন দেখি,স্বপ্ন ভাঙ্গি,আর স্বপ্নের কুঁচি খুঁজে খুঁজে জুড়ে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টায় বুড়ো হয়ে যাই।
আমরা এভাবেই ভালো থাকি,
শ্যামলী। এভাবেই আমাদের ভালো থাকতে হয় !

আমাদের গল্পে কোনো বদল থাকেনা,শ্যামলী ..

এমনকি কোনো বদলাও থাকেনা.
...
শুধু  মুখ বুজে বেঁচে থাকা থাকে ।

বাঁশি

সময়ে অসময়ে ঠিক বাঁশি বেজে ওঠে। তেলকাজল মাখানো স্বপ্নের অপমৃত্যু হয় বাঁধাধরা নিয়মেই,বিনা নোটিসে প্রবল জলোচ্ছ্বাস এসে পার ভাঙতে শুরু করলেই আমরা কাউন্টডাউন শুরু করে দিই। যেমন ধরো ,কোন পাখির নাম মন আর কখনো কখনো শ্যাওলার নাম দিন রাখি ,তবুও বাঁশি কিন্তু বেজেই ওঠে ,বেহাগে ,কোমলে,কাহারবার আনমনা চিবুক ছুঁয়ে ,মেঘমল্লারের ভাসান দেখতে দেখতে বেজেই ওঠে বাঁশি।

বাজুক বাঁশি ,পিপ পিপ করে চৌকিভোলা রাতের মত বাজুক,পেনাল্টির আগে টিনেজ আশার বুক  কাঁপিয়ে ফুররররররর করে বাজুক ,দিকন্তে বিলীন হবার আগে কাটোয়া বর্ধমান  লোকালের কুউউউউউউ থেকে টিপ করে "যেওনা" পাঠানো অপেক্ষারতা ছাতার হৃদয়ে  বাজুক। যেমন ভাবেই হোক,আস্তে আস্তে চেপে রাখা গোপন ফাইলের মত বা ভাঙ্গা কাঁসরের মত হেঁকে যাওয়া ফেরিওয়ালার দুপুরের মত ,কিন্তু রোজই তার বেজে যাওয়া চাইই চাই।

ও বাঁশি,আমাকে আদর কর,আমাকে চাবুকদাগের পিঠ দে,কানের নিচে বাজিয়ে দেওয়া জন্মগত থাপ্পড় দে ,বিষের মত আগুন আগুন হিংসে দে ,দলাদলির যূপকাষ্ঠে ধানজমিতে পড়ে থাকা প্রিয়জনের লাশ দে,

আমি তো একান্তেই চাইছি সেই অপার্থিব হিসহিসের আগে দৌড়বাজ  ইদুরের নগন্য খুদ-জন্ম।

রিসাইকেল বিন

খেলতে জানলে জুয়াটাও একটা ফ্যানটাস্টিক খেলা বৈকি!গন্ধের ব্যাপারী সেজেছে দিন ,লেজার শো"র মত এদিক ওদিক থেকে ছিটকে আসছে আনকোরা অনাঘ্রাতা গন্ধেরা। সকলেই দেখছি নাকের ফুটোকে পেট করে করে অপেক্ষা করছে। কি জ্বালা!আরে কেউ তো হারবি না কি?মহুয়ার গন্ধে বাতাস পোয়াতি হয়েছে ,আর বাতাসের  অত্যাচারে আঁচলদের কন্ঠাগত প্রাণ। এমনি চললে কবে হয়তো আলোও  কবে ভূলে যাবে একমাত্র ঘামগন্ধই সবচেয়ে ফ্লেক্সিবল ইউনিট।
এই দেয়ালার কোন অর্থ হয়না। এই নিষেধের কোন প্রাঞ্জল আপ টু ডেট কিনারাও নেই। শুধুই ঝাঁ চকচকে যাপনের মধ্যে থেকেও বিজয়াদশমীর ঘামতেল বাস্পাকারে উড়ে গেলে ধর্ষিতাও আচমকা কুমারী পুজার মা হয়ে যায়।
অযথার বেপারীদের অতশত ভাবলেও চলেনা ,তাই বলে শেকড় চিনতে ভুল করলে চলবে কি করে ,বেবি?ডোন্ট ইউ নো ,আই ওয়ানা ফ ...হাহাহাহাহা!

উপমার সব চেয়ে গোপন কথাটি পাথর জানে। র্‍্যাঁদেভ্যু জানে ,ম্যাট্রিক্স জানে,সেল ডিভিশনের পরের প্রত্যেকটি ছোটবড় খেয়ালী স্টেশনের আপাতসরল খুচরো পাপের পাশে গড়ে ওঠা ব্যাঙ্গের ছাতার গড়িয়ে যাওয়া স্বমেহনী রাত্রি জানে ,কুকুরের সাথে ভাগ করে নেওয়া ভাগাড়ের নিসর্গচিত্র জানে ,
সবাই জানে অন্তরের অন্তস্থলে লুকিয়ে রাখা ময়ুরপালকের গল্প ,যেমন করে প্রেমিকের রক্তে কবরী সাজিয়ে নিত রাজপুত রমণীরা ,

কেমন করে? ধ্যেত! তার আমি কি জানি!

আমি শুধু ঘুরেঘুরে আদর সঞ্চয় করি। ভাঙ্গা ,পুরোনো ,রদ্দি বলে যেটুকু রুটিনেরা ফেলে দেয় ,তারপর ডবল দামে ,তিন ডবল দামে বেচে দিই। তেমন ভাল মাল পেলে অবশ্য গুঁড়ো করে ট্রয়াডিশন্যাল ঘায়ের পেলব মলম বানিয়ে রেখে দিই। কখনো কষ্টকে ধুপকাঠি করি ,মিথ্যেকে ট্যালকম পাওডার ,বঞ্চনাকে লবন ইত্যাদি ইত্যাদি ..

আইয়াম ব্যাক ,আইয়াম দ্য গ্রেটেস্টের বালছাল শুধু ক্যাসিয়াস ক্লের জন্যে নয়।
না না না ,স্যালাইন নয় ,বিড়ির আগুনের জন্যে
যখন পঁচিশ মিনিট হেঁটে যেতেযেতে ,গা থেকে টপটপ করে বিয়ারগন্ধী প্রায়শ্চিত্ত ঝরে পড়ে ,আর মাঝরাতের  টাল যখন টাইলস বসানো ইউরিন্যালের আনাচেকানাচে থেকে রাম আর মুত্রের মিশ্র গন্ধ এসে হ্যাং-ওভারের দেয়াল টপকেও ভদ্রতার পিঠে সপাং সপাং করে পাতলা  কঞ্চির আদর লেপে দেয় ,মনে হয় এখনো মরিনি,অন্ততঃ পাড়ার বারোয়ারী নেড়িটার মতোও বেঁচে আছি ,শরীরের খদ্দের নেই বলে পানের দোকান খুলে বসে থাকা গোপালপুরের বুলবুলি বেগমের মতোও বেঁচে আছি।

আলটিমেটলি এটাই তো চাওয়া নাকি?
আর এই আপ্তবাক্য তো সবাই জানো বাওয়া ,এক কথার ব্যবসা চলেনা!!!

ছোঁয়াচে

জোৎস্না ফুরিয়ে যাচ্ছে জানি। আনত বর্ফিলি আঁধারের গুঁড়ো উড়ে যাচ্ছে অসহায় সিফিলিস যন্ত্রনা ছুঁয়ে। ক্যামন চেনা কষ্টের মত রাস্তাঘাট ,পুকুরপাড় ,তালবনী ,নাটমন্দির থেকে উত্তরে লম্বা হয়ে শুইয়ে  রাখা চিরায়ত আলপথ ,অনেকটা আমার মত কেউ একজনের রক্তবমিছাওয়া গাল চাটছে অগুন্তি বেড়াল।এসব কষ্টকল্পনার টুকরি হতে পারে।আবার এও হতে পারে আন্ত্রর্জাল ছুঁয়ে কাঙ্খিত দূরত্ব পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে এই দূষণ ,এই অশ্লীল আবেশ ,এই কবিতা নাম্নী হিপোক্র্যাসি।

আসলে সব সময় দেখা সত্যিটুকু বলা যায়না যেমন এখন বলা সত্যিটুকুর আনাচেকানাচে দেখাদেখির পাত্তা নেই।
এসব পাগলাচোদা স্ট্যাটাস লিখতে   কদিন আগেও আমার বেশুমার খিল্লি পেতো। মিথ্যে বলাটাকে একটা আর্টে পরিণত করার ক্রেডিট আমাকে কেউ দেবেনা জেনেও কিছু অবদান রেখে যেতে চেয়েছিলাম।

নিজেকে ন্যাংটো করাটাকে কি বলে?প্রেম?
বেশ কয়েকজোড়া চোখের সামনে বিবস্ত্র হয়ে শরীর দেখাচ্ছি না লুকোচ্ছি ,বুঝে উঠতে পারছি না। তুমি খুব ছেলেমানুষের মত দিব্যিতে বিশ্বাস কর ,সেই দিব্যির দিব্যি ,আমি এমন ছিলাম না। ভাল ছিলাম কি মন্দ ছিলাম ,জানিনা কিন্তু এমন ছিলাম না।নিজের মৃত্যুবান কখন যে পার্টিবদলু নেতাদের মত তোমার কাছে চলে গেছে ,কে জানে!

আমার সর্বত্রই একটু বেশী শরীর।চোখে ,মুখে ,আচরণ ,বিশ্বাস ,সন্দেহ ..সব ক্ষেত্রেই। তুমি আবার 'সহমীসহমীসি ' ইমেজ বানিয়ে নিরাসক্ত গোরুর চোখ মেলে বসে থাকো। টলটলে ,গহীন ,রহস্যময় ,ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠার প্রাকমূহুর্তের মত 'এই গেল ,এই গেল 'ভাব ,,
এতসব বলতে ভাল্লাগে না। ভাল্লাগে না ভাবতে ,আমরা কোনোদিন কেউ কাউকে পাবোনা। পাশাপাশি থাকবো ,তোমার স্তনসন্ধিজাত ঘামের গন্ধ পাবো ,তুমি আমার ঠোঁটের বিরল থেকে গলে গলে পড়া চিওইং গামের ,কিন্তু গন্ধের ভিতরে যাওয়ার মত সাধারণ হওয়ার সুযোগ পাবোনা। আমরা আসাধারন হয়ে থাকতে থাকতে মরে যাবো। ছা পোষা যাপনের হাতছানি থাকবে ,খুচরো পাপের আকর্ষণ ,কামড়াকামড়ির দুর্নিবার প্রোভোকেশন ,তবুও আমরা দুজন সারাজীবন অভিশপ্ত প্রেমিকপ্রেমিকা হয়েই থাকবো। কাঁদবো ,কাঁদাবো ,বন্ধনহীন উল্কার মত ছুটে আসতে চাইবো ,ভেঙ্গে থানথান করে দিতে চাইবো দূরত্বের স্পর্ধাজনিত বেড়াজাল। ব্যস ,ওই চাওয়াটুকুই সার হবে কিন্তু সত্যিসত্যি কেও কাউকে ছুঁতে পারবোনা।

তবে ভালোবাসা আর অভিশাপের মধ্যে পার্থক্য কতোটুকু,এ প্রশ্নের উত্তর এক না একদিন পেয়ে যাবে ,দেখো!!

এসকেপিস্ট

খিস্তিসর্বস্ব চিত্কৃত প্রজন্মের প্রতিনিধি আমি ,অনিন্দ্য। আমার মধ্যে একটা অকারণ আগ্নেয়গিরি ফুটছে। আমার রাগ হয় ,এই এস্টাব্লিশ্মেন্টের উপর ,এই সবকিছু ঠিকঠাক বলে মেনে নেওয়া সিস্টেমের উপর ,এই আমি নামক সংরক্ষিত দেখনদার প্রস্টিটিউশনের উপর ,সর্বোপরি তোমার উপর ..
হ্যাঁ ,তোমার উপরও আমার রাগ হয় অনিন্দ্য ,অথচ হওয়াটা বোধহয় উচিৎ ছিল না। তোমাকে কোনদিন দেখিওনি ,তুমি বেঁটে না লম্বা ,কালো না ফর্সা ,বকতিয়ার না সুভাষ ,কিছছু জানিনা ,তবুও রাগ হয়। তোমার নামের সাথে রিলেটেড সমস্তকিছুর বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ ,চোখ বুজলেই দেখতে পাই; তুমি বাহুমূলে সুগন্ধি লাগিয়ে ,ভাঁজহীন শার্ট পরে ,কাদা বাঁচিয়ে ,ফুরফুরে মেঘের মত উড়ে চলেছো। যেন সমস্ত সুন্দরের উপর তোমার জন্মগত অধিকার। তুমি শালা প্রিভিলেজড পুতুপুতু প্রেমিক ,তোমাকে আমার ঘৃনা করতে ইচ্ছে হয় ,অনিন্দ্য।

এই যে পাঁকে আপাদমস্তক ডুবে থাকা ,বাহ্যিক সব কিছুকে পোড়াতে চেয়েও ব্যর্থ হয়ে নিজেকে পুড়িয়ে ছাড়খার করার অসহায়তা ,এই যে অনর্থক থুতুগরল উগরানো ,এইযে বিকৃতবিলাস ,এর সাথে আমার অনুপরমাণু জুড়ে আছে। সমস্ত সুন্দরের বিরুদ্ধেই আমার এই অযাচিত বিক্ষোভ। যা যা আমি পাইনি কিংবা যা যা তুমি পেয়েছ ,তার সকলের বিরুদ্ধেই আমার আপত্তি অনিন্দ্য। দিনরাত আমি এক্সপ্লয়েট হচ্ছি ,প্রতক্ষ্যদর্শী হয়ে থাকছি আমার অযৌন ধর্ষণের ,তোমাদের তথাকথিত সুন্দরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্বার্থপরতার পাকদন্ডি বেয়ে একদিন উঠবোই উঠব। ভাঙতে পারি না পারি ,একটা বিষাক্ত আঁচড় দিয়েও যাব এই "ঠিকঠাক চলতে থাকা"র গালে।

তুমি অসুন্দর এড়িয়ে যেতে চাও ,আমি সুন্দরকে। তোমার পৃথিবী স্মৃত ,শোভন ,আলোকোজ্জল। আমার যাপনের চারপাশে মল ,মুত্র আর শুকিয়ে যাওয়া বীর্যগন্ধের জাহান্নাম।

তুমি আমার আয়নার উল্টো পিঠ .অনিন্দ্য। তুমিও এসকেপিস্ট আমিও এসকেপিস্ট।

কষ্টের মামাবাড়ি

চলো পাথর ,সশরীরে যাই। হীন হই,দীনের চেয়েও দীনতর হই।চলো ,রক্তশুন্যতা কাটিয়ে ওঠা বলদায়ক কিছু স্বপ্ন খাই। চলো,ডিঙ্গিয়ে যায় রুমাল,বিকেল,নখ,পড়শি স্বপ্নের পাড়াও ,চলো ,লালের ভিতরে থেকে লালিত্য মুছে দিয়ে শুধু চাওয়া পাওয়ার ডুমোডুমো ,চাকাচাকা টোপগুলোকেই ক্ল্যাসিফাই করি। চলো,লাইন হোটেলে পেট চেপে শুয়ে থাকা ট্রাক ড্রাইভারের থেকে রোমন্থন শিখি। চলো না,কিছু চালিয়াত শব্দকে ধরেবেঁধে কিছু মারকাটারি রক্তস্বাক্ষর দিই।

স্বপ্নের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে  ব্যালে করছে আকাশ ,আর পৃথিবীর সমস্ত অচেনা আর আধাচেনা মেয়ের নাম কিকরে ব্যালেরিনা হয়ে যাচ্ছে! সামনে সুবেশী বাইকআরোহী যুবক,হর্ন বাজছে ,কোন পেশী কতোখানি কুঁচকে যাচ্ছে ,অনুবাদে খুশী নাকি ভয় ,নাকি চিরঅচেনা কি হয় কি হয়!

চলো পাথর,একবার শরীরসহ ঘুরে আসি। কত ট্রেনের শান্টিংএর দীর্ঘায়িত কুউউউউউ যেখানে কোকিল হয় ,যেখানে পায়ের কাছে অজস্র মাথার খুলি ,স্টেশনে বসেই অদ্ভুত মশলসদার সরবত বিলোচ্ছে প্রাক-পুজার আহট ,আর জমানো অগুনিত হাড়ে আমার মত বৃথা রাগের কাহিনী ,
চলো পাথর ,অবহেলার কাঁদোড় সাঁতরে পার হই ,চলো ,মামাবাড়ি যাই।

ক্যায়োটিকা

বিরহ আমার ক্যায়োটিক।হায়রোগ্লিফিকের  উপর আদিম শ্যাওলার মত ,সেই কবে থেকেই জিয়ানো আছে।
আমিও ফুলবনে হনুর বালখিল্যে তাকে অফুরান ভাবি আর মনে মনে শরীর হই। আমার আলু  না তার আলোর দোষ ,কে জানে!

আমার অস্তমিত সুর্যপরাগের মত কনফিউজড জোনাকির পাছায় আটকে থাকা হৃদয় ,আমার দেহপসারিণীর উঠানের মাটির চ্যাঙ্গরের মত ক্ষনপ্রয়োজনীয় শরীরিবিন্যাস,আমার ঢ্যামনা পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মত আপাতসুন্দর আবহবিকার ,আমার সদ্য থাপ্পড়ে জ্ঞানলব্ধ পুনর্বিবেচনা ,কোনটাকে দেখনসই কভার পিকচার করি,বলুন তো?

আমি কি মরণোন্মুক মাকড়শা নাকি অষ্টধাতুর আংটি বিক্রি করা  ভাতারখাকীর ভাতা ,না বেশ্যাসক্ত পদ্যকার যে ভেউ ভেউ করে রিকশাওয়ালার ছা পোষা হর্নের ভাত মারছি!

তারচে চল হে,হরিদাস পাল নামক খুঁতো শাহেনশাহ ,কুঞ্চিত কেশদামের সামনে স্রাষ্টাঙ্গে চিত হয়ে পড়ে থাকা বলিপ্রদত্ত অসময়ী পাঁঠা,চল ,বৃষ্টিতে ভিজে রক্তশুন্য হই।স্বপ্নের ঠিকানার নিচের কলামে প্রযত্নে ফ্যালাসিসর্বস্ব মহাকাব্যিক কুটকুটি লিখে দিয়ে আসি।  বৃষ্টি তো নাদান ,সে ইতিহাসের বারবেলা জানেনা ,উঁচুনিচু জানেনা না ,দ্যাখো, দুর্গামন্ডপ আর সাঁওতালনীর দেশীমদের ঝুপড়ি ক্যামন একসঙ্গে ভিজছে ,দ্যাখো ,

ওইযে পুরু চামড়া ,ওইযে চুলকানীসর্বস্ব ব্যাকসিটে জেন্টল্ম্যানিস স্ট্যাম্প ,একটু একটু করে পচে উঠুক ,গলেগলে ঝরেঝরে পড়ে যাক। এবার ফলন কম হয়েছে গো। চল ,বরং পিঁপড়ের খাবার হই। চল না ,দেখে আসি ,ও ঠোঁটেও অর্গাজম আছে কি নেই।

তারপর যদি হাতে পেনসিল ছাড়া আর কিছু থাকে ,তখন উচ্ছিষ্ট নিয়ে রাজপথে নামবো। সমস্ত বিয়ারের ফেনা এক গ্লাসে জড়ো করবো।তখন বরং আবার তোমাকে চাই …তোমাকে চাই …তোমাকে চাই…বলে টুঁটির মা কি আঁখ করে দিয়ে চেল্লানো যাবে!!

রদ্দিওয়ালা

খেলতে জানলে জুয়াটাও খেলা বৈকি!গন্ধের ব্যাপারী সেজেছে দিন ,লেজার শো"র মত এদিক ওদিক থেকে ছিটকে আসছে আনকোরা অনাঘ্রাতা গন্ধেরা। সকলেই দেখছি নাকের ফুটোকে পেট করে করে অপেক্ষা করছে। কি জ্বালা!আরে কেউ তো হারবি না কি?মহুয়ার গন্ধে বাতাস পোয়াতি হয়েছে ,আর বাতাসের  অত্যাচারে আঁচলদের কন্ঠাগত প্রাণ। এমনি চললে কবে হয়তো আলোও  কবে ভূলে যাবে একমাত্র ঘামগন্ধই সবচেয়ে ফ্লেক্সিবল ইউনিট।
এই দেয়ালার কোন অর্থ হয়না। এই নিষেধের কোন প্রাঞ্জল আপ টু ডেট কিনারাও নেই। শুধুই ঝাঁ চকচকে যাপনের মধ্যে থেকেও বিজয়াদশমীর ঘামতেল বাস্পাকারে উড়ে গেলে ধর্ষিতাও আচমকা কুমারী পুজার মা হয়ে যায়।
অযথার বেপারীদের অতশত ভাবলেও চলেনা ,তাই বলে শেকড় চিনতে ভুল করলে চলবে কি করে ,বেবি?ডোন্ট ইউ নো ,আই ওয়ানা ফ ...হাহাহাহাহা!

উপমার সব চেয়ে গোপন কথাটি পাথর জানে। র্‍্যাঁদেভ্যু জানে ,ম্যাট্রিক্স জানে,সেল ডিভিশনের পরের প্রত্যেকটি ছোটবড় খেয়ালী স্টেশনের আপাতসরল খুচরো পাপের পাশে গড়ে ওঠা ব্যাঙ্গের ছাতার গড়িয়ে যাওয়া স্বমেহনী রাত্রি জানে ,কুকুরের সাথে ভাগ করে নেওয়া ভাগাড়ের নিসর্গচিত্র জানে ,
সবাই জানে অন্তরের অন্তস্থলে লুকিয়ে রাখা ময়ুরপালকের গল্প ,যেমন করে প্রেমিকের রক্তে কবরী সাজিয়ে নিত রাজপুত রমণীরা ,

কেমন করে? ধ্যেত! তার আমি কি জানি!

আমি শুধু ঘুরেঘুরে আদর সঞ্চয় করি। ভাঙ্গা ,পুরোনো ,রদ্দি বলে যেটুকু রুটিনেরা ফেলে দেয় ,তারপর ডবল দামে ,তিন ডবল দামে বেচে দিই। তেমন ভাল মাল পেলে অবশ্য গুঁড়ো করে ট্রয়াডিশন্যাল ঘায়ের পেলব মলম বানিয়ে রেখে দিই। কখনো কষ্টকে ধুপকাঠি করি ,মিথ্যেকে ট্যালকম পাওডার ,বঞ্চনাকে লবন ইত্যাদি ইত্যাদি ..

আইয়াম ব্যাক ,আইয়াম দ্য গ্রেটেস্টের বালছাল শুধু ক্যাসিয়াস ক্লের জন্যে নয়।
না না না ,স্যালাইন নয় ,বিড়ির আগুনের জন্যে
যখন পঁচিশ মিনিট হেঁটে যেতে হয় আর মাঝরাত্রে টাল যখন টাইলস বসানো ইউরিন্যালের আনাচেকানাচে থেকে রাম আর মুত্রের মিশ্র গন্ধ এসে হ্যাং-ওভারের দেয়াল টপকেও ভদ্রতার পিঠে সপাং সপাং করে পাতলা  কঞ্চির আদর লেপে দেয় ,মনে হয় এখনো মরিনি,অন্ততঃ পাড়ার বারোয়ারী নেড়িটার মতোও বেঁচে আছি ,শরীরের খদ্দের নেই বলে পানের দোকান খুলে বসে থাকা গোপালপুরের বুলবুলি বেগমের মতোও বেঁচে আছি।

আলটিমেটলি এটাই তো চাওয়া নাকি?
আর এই আপ্তবাক্য তো সবাই জানো বাওয়া ,এক কথার ব্যবসা চলেনা!!!